
অনলাইন ডেক্সঃ স্প্যানিশ ট্রান্সপোর্ট জায়ান্ট ফেরোভিয়ালের কাছ থেকে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরের ১০ শতাংশ শেয়ার কিনবে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)। এছাড়া মূল কোম্পানি এফজিপি টপকোর আরো ১৫ শতাংশ শেয়ার ফেঞ্চ প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ড আরডিয়ানের কাছে বিক্রি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি।
কোম্পানিটি জানায়, ২০০৬ সাল থেকে ব্রিটিশ বিমানবন্দরটির একটি অংশের মালিক ফেরোভিয়াল। পিআইএফের সঙ্গে তাদের চুক্তির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার। চুক্তি অনুমোদিত হলে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরের অপারেটর খাতে ফেরোভিয়ালের বিনিয়োগের অবসান ঘটবে, যা শুরুর দিকে ছিল ৫৬ শতাংশ এবং ২০১৩ সালে নেমে আসে ২৫ শতাংশে।
এফজিপি টপকোর অন্য স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, কানাডার সিডিপিকিউ, সিঙ্গাপুরস জিআইসি, অস্ট্রেলিয়ান রিটায়ারমেন্ট ট্রাস্ট, চায়না ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন এবং ইউনিভার্সিটিস সুপারঅ্যানুয়েশন স্কিম।
অধিক ঋণে বিমানবন্দরটি চলতি বছর লোকসানে পড়েছে। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, উচ্চ সুদহারের কারণে অতিরিক্ত ঋণ ব্যয়।
এদিকে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি যাত্রী চার্জ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা টার্মিনাল, রানওয়ে, ব্যাগেজ সিস্টেম ও নিরাপত্তার জন্য খরচ করতে হয়। হিথ্রো বিমানবন্দরে ২০২৩ সালে যাত্রীপ্রতি গড় চার্জ ছিল ৩১ দশমিক ৫৭ ইউরো, যা ২০২৪ সালে কমিয়ে ২৫ দশমিক ৪৩ ইউরো করা হবে। চার্জের নতুন এ পরিমাণ ২০২৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
যদিও হিথ্রো কর্তৃপক্ষ চার্জের পরিমাণ ৪০ ইউরোর বেশি ধার্য করতে চেয়েছিল। তবে এয়ারলাইনসগুলোর প্রস্তাব ছিল ১৮ দশমিক ৫০ ইউরোর বেশি করা উচিত হবে না।
সৌদি আরবের পিআইএফ বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল। যাদের তেলসহ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ফুটবল ও গালফের মতো খেলাধুলায় বিনিয়োগ করেছে তারা। ভিশন ২০৩০ অর্জনে তহবিলটি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিয়ন্ত্রণে। যদিও তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা জানান, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসগিকে হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন বিন সালমান। এর পরও যুবরাজকে যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের দূতাবাসের তথ্যানুসারে, মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুক্তরাজ্য সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।